‘স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বনাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

ঢাকা

রোববার (২০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আবদুস সালাম হলে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বনাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, এখন যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান তারা আদালতে গিয়ে দাবি তুলবেন। আদালত অনুমোদন না দিলে তো কিছু করা যাবে না। এটা আদালত অবমাননা। আপনি রাজনীতি করবেন, দেশ চালাবেন আর আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে না এটা হতে পারে না।

এ কে এম শহীদুল হক আরও বলেন, যেই তত্ত্বাবধায় চলে গেছে, সেটা আসার আর কোনো সুযোগ নেই। এখন কীভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, সুষ্ঠু নির্বাচন কী পন্থায় করা যায় সেই চিন্তা করেন।

তিনি বলেন, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যকালাপে ত্যক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না। এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ আদালত যেই ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন, সেই জিনিসটাকে কি আবার নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার কোনো সুযোগ আছে?

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে পুলিশের সাবেক আইজিপি বলেন, আপনারা নির্বাচনে আসবেন না, এইটা কোনো ভালো চিন্তা না। সরকারের সঙ্গে বসতে হবে। আপনারা রূপরেখা দেন যে, আমরা নির্বাচনকালীন সরকারে এমনটা করতে চাই। আপনারা দুই দল বসেন, জনগণকে বাঁচান।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছে উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপিকে ৫টি মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা করার অনেক চেষ্টা করেছে। টেলিফোন করেছিলেন বিরোধীদলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে। আমরা তো শুনেছি তার কথা। দেশের সিটিং প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে যেই আচরণটা করলেন!

শহীদুল হক বলেন, আপনারা নির্বাচনে আসবেন না, তা শোভা পায় না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আসেননি। নির্বাচন কিন্তু বসে নেই, নির্বাচন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সবাই সেই সরকারকে স্বীকৃতিও দিয়েছে। সেই ২০১৪ সালের তুলনায় আওয়ামী লীগ এখন আরও অনেক শক্তিশালী।

এতে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব সউম আবদুস সামাদ, এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ড. প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা জিয়াউল আহসান, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক, সম্মিলিত মুসলিম উম্মার চেয়ারম্যান মুফতি সাইয়্যেদ আব্দুস ছালাম ও মো. মিজানুর রহমান মিজু।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু তৈয়ব চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মুজাফফর আহমদ মুজাদ্দেদী, গোলাম মাহমুদ মানিক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এম সোলায়মান ফরিদ, পীর গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ্ প্রমুখ।

Related Articles

Back to top button